সালমান শাহ’র অপমৃত্যুর মামলা হত্যা মামলায় রূপান্তরের দাবি

চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র আত্মহত্যার মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করার দাবি জানিয়েছেন তার মা নীলা চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯ টায় লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে নীলা চৌধুরীর সঙ্গে তার দুই ভাই বুলবুল চৌধুরী ও জগলুল চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নীলা চৌধুরী বলেন, সালমান শাহকে হত্যা করার পর দেশের ১৬ কোটি মানুষ কেঁদেছেন। তাকে একটি গ্যাং হত্যা করেছে। অথচ ওই সময় বাধ্য হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল। কারণ পুলিশ যেভাবে বলেছে, সালমান শাহর বাবা ঠিক সেভাবেই মামলাটি করেছিলেন। এখন মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হোক।

সংবাদ সস্মেলনে রাবেয়া সুলতানা রুবির ফেসবুকের ভিডিও ফুটেজ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নীলা চৌধুরী বলেন, ওই আসামির নামের তালিকায় রুবির নাম রয়েছে। মামলার আসামি সম্পর্কে কিছু বলতে পারি না। কারণ আমি নিজেই বিস্মিত। ২২ বছরেও এটা বের করতে পারছে না। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই মামলা বিলম্বিত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইস্কাটনের ফ্ল্যাট থেকে সালমান শাহের লাশ উদ্ধারের পর ১৯৯৭ সালে নীলা চৌধুরী তার পুত্রবধূ সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্রের খল চরিত্রের অভিনেতা ও সালমানের বন্ধু আশরাফুল হক ওরফে ডন, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মাদ ভাই, রুবি, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ, সহকারী নৃত্যপরিচালক নজরুল শেখ, ডেভিড, মোস্তাক ওয়াহিদ, আবুল হোসেন খান ও গৃহকর্মী মনোয়ারাকে ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে আদালতে মামলার আবেদন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নীলা চৌধুরী বলেন, সিআইডি সালমান শাহ আত্মহত্যার মামলাটি তদন্ত করে বলেছে, পারিবারিক কলহে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার কলহের জন্য দায়ী। অথচ পরিবার মানে সালমান শাহর স্ত্রী। সিআইডির এই রিপোর্টের কারণে কেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরাকে গ্রেফতার করা হলো না সে প্রশ্ন কেউই করেননি। সালমান শাহ আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, সালমান শাহ যে আত্মহত্যা করেছে তার প্রমান কোথায়? সালমান শাহর গলায় দাগ ছিল না। সালমান শাহর জিহবা বের হয়ে ছিল না। ঘাড়ে কোন দাগ ছিল না। সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই।

বর্তমানে পিবিআইয়ের ওপর তিনি আশাবাদী উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাকে খুন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কি চাপে করা হচ্ছে আমি জানি না। চাপের উর্দ্ধে আইন ও সরকার। আমি আইনের কাছে বিচারের দাবি করছি।’

এদিকে, নীলা চৌধুরীর এই সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারে পিবিআইয়ের (পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন) বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমানে আত্মহত্যার মামলা তদন্ত চলছে। তবে এই মামলাটি তদন্ত করে যদি কোন হত্যার আলামত মিলে, সে ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষ থেকে বা পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা সম্ভব। তবে ২২ বছর আগের এই মামলার অনেক আলামত নেই। সম্প্রতি রুবির যে ভিডিও ফুটেজ বের হয়েছে তাতে হয়তো মামলার তদন্তে গতি পাবে। সে ক্ষেত্রে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কী না- এ ব্যাপারে পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।