২২ কোটি টাকার কোকেন উদ্ধার

খুলনা নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই কেজি ২৫০ গ্রাম কোকেন উদ্ধারের দাবি করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৬। গতকাল শুক্রবার রাত ১০টা থেকে আজ শনিবার ভোর পর্যন্ত এ অভিযান চালায়। এ সময় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন রূপসা উপজেলার আইচগাতী গ্রামের সোহেল রানা, ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া এলাকার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস, নগরের টুটপাড়া কবরস্থান এলাকার এরশাদ হোসেন, গগনবাবু রোড এলাকার আরিফুর রহমান সগির, দাকোপ উপজেলার বউমার বটতলা এলাকার বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল ও একই উপজেলার মৌখালি গ্রামের ফজলুর রহমান।

র‍্যাবের দাবি, উদ্ধার হওয়া কোকেনের আনুমানিক মূল্য ২২ কোটি টাকা। আটক ব্যক্তিরা মাদক চোরাচালান চক্রের সদস্য। ওই চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কোকেন উদ্ধারের ঘটনায় আজ দুপুর ১২টার দিকে র‍্যাব-৬-এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৬-এর পরিচালক খন্দকার রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা নগরের ময়লাপোতা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ২৩০ গ্রামের মতো সাদা পাউডার পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ওই পাউডার হলো কোকেন। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গগনবাবু রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুর রহমান সগিরকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান যে এগুলো তিনি দাকোপের চালনা বাজার এলাকার বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল ও ফজলুর রহমানের কাছ থেকে পেয়েছেন। পরে ফজলুর রহমান ও বিকাশকে আটক করলে তাঁরা জানান, আরেক বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস ও এইচ এম এরশাদের কাছে আরও কোকেন আছে। এরপর প্রথমে এরশাদকে আটক করা হয়। পরে বিকাশকে রূপসার রাজাপুর এলাকার ভাড়া বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এ সময় বিকাশের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাঁর বাড়ি থেকে তিনটি প্যাকেটে আরও দুই কেজি ২০ গ্রামের মতো কোকেন উদ্ধার করা হয়।

কোকেনগুলো প্রায় দেড় বছর আগে খুলনায় এসেছে বলে দাবি র‍্যাব-৬-এর পরিচালকের। কিন্তু কোথায় বিক্রি করতে হবে, তা না জানার কারণে এত দিন এগুলো পড়ে ছিল বলে তিনি ধারণা করছেন। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রূপসা থানায় মামলা করে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।