থিসিস/পেপারের ফরম্যাটিং – পেপার লেখার সময় যেসব বিষয় গুলো গুরুত্বপূর্ন

কোনো পেপার বা থিসিস লিখতে গেলে আমাদের সবার মাথাতেই প্রশ্ন আসে ফরম্যাটিং কিভাবে করবো, রেফারেন্স কিভাবে দিবো, ফন্ট – ওয়ার্ড – লাইন স্পেসিং কিভাবে হবে, কি কি সেকশন রাখবো, ফুটনোট কিভাবে আসবে ইত্যাদি। শিক্ষকেরা যেহেতু সবাইই উচ্চ শিক্ষিত এবং অনেকেই দেশের বাইরে থেকে পড়ে এসেছেন তারা এক্সপেক্ট করেন একটি কমন ফরম্যাট। তাছাড়া এই পেপার যদি পরে আপনি দেশের বাইরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাবহার করতে চান, বা কোনো জার্নাল বা পাবলিকেশনে পাঠাতে চান তাহলে তো কথাই নেই, একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট ছাড়া তারা এক্সেপ্টই করবে না। কাজেই ফরম্যাট ব্যাপারটা জরুরী।

আমি এই পোস্টে চেস্টা করবো একেবারে কভার পেজ থেকে শেষ পেজ পর্যন্ত ফরম্যাটিং এর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখতে। বিষয় গুলো আমার বানানো না, এ্যাকডেমিক কমন প্রাক্টিস থেকে শেখা/নেয়া। যদি না আপনার প্রফেসর বিশেষ কোনো নির্দেশনা না দেন (যেমন ডবল স্পেস জাতীয় কিছু) তাহলে এভাবে লিখতে পারেন। আর থিসিস, জার্নাল পাবলিকেশন বা ডিসার্টেশন হিসেবে লিখলে এগুলোকে ১০০% ফলো করার চেস্টা করুন। বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে কিছু এদিক সেদিক হতে পারে, তবে বেসিকটা একই থাকবে যেমন ক বিশ্ববিদ্যালয়ে হেডার থেকে তিন স্পেস ফাকা রাখতে বলতে পারে, খ বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো বলবে চার স্পেস। তবে মনে রাখবেন এগুলো মূলত এ্যাকাডেমিক পেপারের ক্ষেত্রে খাটে, সেলস রিপোর্ট বা বিজলেস প্ল্যান জাতীয় জায়গায় এগুলো খাটবে না। এই রুলগুলো মূলত সহজ পাঠযোগ্য করে ও সর্বনিম্ম পর্যায়ে স্টাইলিং রাখার জন্য। বিজনেস রিপোর্টে ব্যাপারগুলো অন্যরকম।

কমন সেটিংস (সব পেইজের জন্য):

মার্জিন রাখার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম না থাকলেও প্রিন্ট ও বাইন্ডিং এর সুবিধার্থে ১” মার্জিন রাখুন। ফন্ট একই রাখতে ভুলবেন না। কভার পেজ থেকে সাব্সটেন্স পেজের ফন্টই এক রাখবেন। স্পেস হিসেবে সিন্গেল স্পেস বা ১.৫ স্পেস ব্যাবহার করতে পারেন। তবে যেটাই ব্যাবহার করে পুরো পেপারেই একই স্পেসিং ব্যাবহার করবেন। এই লেখাতে স্পেস বলতে আপনার পছন্দ করা স্পেসিংটাই বোঝানো হবে। ক্যারেক্টার স্পেসিং হিসেবে ফন্ট ডিফল্ট স্পেসিংই ব্যাবহার করবেন।

কভার পেজ:

এই পেইজে সব লেখা সেন্টার্ড রাখুন। সবার উপরে সব ক্যাপিটাল লেটারে আপনার ইউনিভার্সিটির নাম ও পরে একটি স্পেস দিয়ে সাবসেকশনের নাম লিখবেন (এটা সাধারনত আপনার ডিপার্টমেন্ট)। এই দুটো অংশে সব ক্যাপিটাল লেটার ব্যাবহার করবেন।

এর পরে ৪থেকে ৪ স্পেস দিয়ে আপনার পেপারের টাইটেল দিন। এটাও সব ক্যাপিটাল লেটারে হবে।

এর পরে ৪-৫ স্পেস দিয়ে লিখুন By (ওয়াই ক্যাপিটালাইজ করবেন না), এবং তার পর একটি স্পেস দিয়ে আপনার নাম দিন। আপনার নামের সব লেটার ক্যাপিটাল লেটারে লিখুন।

এর পরে ৪-৫ স্পেস দিয়ে এই পেপারটি কোথায় সাবমিট করা হচ্ছে ও কেনো তা লিখুন। এই অংশ হবে সাধারন সেনটেন্স স্ট্র্যাকচারে ও এক বাক্যে। উদহারন দেই:

A Thesis submitted to the Department of Physical Science in partial fulfillment of the requirements for the degree of Doctor of Philosophy

খেয়াল করুন শেষে কোনো পিরিয়ড ব্যাবহার করা হয় নি। আপনার ডিগ্রির নাম কি সেটা শিওর হয়ে নেবেন। ডিগ্রির নাম সাধারনত Master of Arts (Master’s নয়) Doctor of Philosophy (doctorate নয়) হয়ে থাকে। এখানে ডিপার্টমেন্ট আর দ্বিতীয় লাইনের সাবসেকশন একই হতে হবে এমন কথা নেই। যেমন আপনি University of Nigeria এর College of Physical Science এর অধীনে Department of Exercise Science এর শিক্ষার্থী হতে পারেন। এক্ষেত্রে সাবসেকশন (কলেজ অফ ফিজিকাল সায়েন্স দ্বিতীয় লাইনে লিখবেন, ডিপার্টমেন্ট লিখবেন এই অংশে)। ডিপার্টমেন্ট ও সাবসেকশনের সঠিক নাম শিওর হয়ে নিন।

এর পর ৪-৫ স্পেস দিয়ে সাবমিশন ডেট বা গ্রাজুয়েশন ডেট লিখুন। এর টাইটেল: Degree Awarded: বা Submission Date: যদি এটা আপনার ফাইনাল পেপার না হয় তাহলে ডেট ব্যাবহার করুন। যদি ফাইনাল থিসিস সাবমিশন হয়, তবে ডিগ্রির সেমিস্টার বা সেশন ব্যাবহার করবেন। ডেট লিখুন October 4, 2010 ফরম্যাটে। সেমিস্টার চাইলে লিখুন Degree Awarded: (Enter) Fall Semester, 2010 (ক্যাপিটাইজেশন খেয়াল করুন)।

এই পেজে কোনো নম্বর বা বর্ডার দেবেন না (কোনো পেইজেই বর্ডার দেবেন না, যদিনা পেইজের পুরোটাই টেবিল বা চিত্র হয়)।

এ্যাপ্রুভাল পেইজ:

এই পেজটি মূলত ঐচ্ছিক, যদি আপনার সাবমিশন কোনো ডিগ্রির জন্য হয় তবে এটই যুক্ত করবেন। অন্য কোনো পেপারের জন্য এই পেইজটির কোনো প্রয়োজন নেই।

পেজটির শুরু হতে পারে এভাবে: The members of the Committee approve the Thesis of John M. Doe defended on October 4, 2010. ক্যাপিটাইজেশন, ডেট ফরম্যাট ও নেম ফর্ম্যাট খেয়াল করুন। যদি আপনার ডিগ্রির জন্য থিসিস ডিফেন্স না থাকে তবে ডিফেন্ডেড এর জায়গায় সাবমিটেড ব্যাবহার করুন।

এর স্পেস নিচে আপনার থিসিস কমিটি মেম্বারদের নাম ও তদের স্বাক্ষরের জন্য জায়গা দিন। প্রথমে থাকবে প্রাইমারি প্রফেসরের নাম। তার পর যদি কোনো এক্সটার্নাল থাকে তবে তার নাম এবং তার পর এ্যাল্ফাবেটিক্যাল অর্ডারে বাকি কমিটি মেম্বারদের নাম। এই নামের গুলোর জন্য রাইট এ্যালাইনমেন্ট ব্যবহার করুন ও নামের মাঝে অন্তত একটি স্পেস রাখুন সিগনেচারের জন্য।

একেবারে নিচের লাইনে লিখতে পারেন: The Graduate Institute has verified and approved the above named committee members.

এই পেজে নম্বর ব্যাবহার করতে হবে। এই নাম্বরিং সিস্টেম হবে রোমান লোয়ার কেস (ii iii iv লোয়ার কেস রোমান নম্বরিং সিস্টেম, II III IV আপারকেস রোমান নম্বরিং)। মনে রাখবেন পেজ নম্বরিং শুরু হবে ii (দুই) থেকে। কভার পেজ আসলে প্রথম পেজ এবং সেটায় কোনো লিখিত নম্বরিং নেই।

ডেডিকেশন পেইজ:

এটাও একেবারে অপশনাল পেজ। সাধারনত ফাইনাল থিসিস বা ডিসার্টেশন ছাড়া এই পেইজটি দেয়া হয় না। সেগুলোতেও সবসময় এই পেইজের ব্যাবহার নেই। এটা ব্যাক্তিগত পছন্দের ব্যপার। জার্নাল সাবমিশনের এটি ব্যবহার করবেন না।এই পেইজের নম্বর হবে iii যদি আগের পেজটি ব্যাবহার করেন.

এ্যাকনলেজমেন্ট পেজ:

এটাও অনেকটা অপশনাল পেজ, তবে মেজর পেপারে এটা ব্যাবহার করা ভালো। এতে আপনার পেপার লিখতে যাদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করবেন।

এই পেজ থেকে সেকশন টাইটেলের ব্যবহার শুরু হবে। পুরো পেপারে সেকশন টাইটেল হিসেবে একই ফন্ট ও সাইজ ব্যাবহার করবেন। সেকশন টাইটেল হবে সব ক্যাপিটাল লেটারে এবং সেন্টার এলাইনড। সেকশন টাইটেল সবসময় নতুন পেজে রাখবেন এবং চাইলে টাইটেলের আগে ও পরে ১-২ স্পেস ফাকা রাখতে পারেন।

সূচিপত্র (টেবিল অফ কন্টেন্টস):

হেডিং হবে সেকশন হেডিং। এই পেজের পরে আসা সব পেজের সূচি হবে এই পেইজ। পেজ নম্বরও প্রদত্ত পেজ নম্বরের সাথে মিলতে হবে। যদি কোনো সেকশনে সাবসেকশন থাকবে তবে ইনডেন্টের মাধ্যমে তাও দেবেন। সাবসেকশনের সাবসেকশন থাকলে তা নাও দিতে পারেন। হেডিং যেই ক্যাপিটাইজেশনে দেবেন সেটা এখানেও এক হতে হবে। সেকশনের নাম ও পেজ নম্বরের মাঝে ডট ( . ) দিয়ে যুক্ত করতে পারেন, নাও করতে পারেন তবে লাইন দিয়ে যুক্ত করবেন না। মূল পেপারের (কন্টেন্ট সেকশন ও এ্যাপেন্ডিক্স) হতে হবে নম্বরড। পেজ নম্বরের কলাম যেনো সোজা হয় (রাইট জাস্টিফাইড)

উদহারন দেখলে ব্যাপারটা পরিস্কার হবে:

List of Tables ……… vii
List of Figures …….. viii
Abstract ……………… x
1. INTRODUCTION .. 1
2. SOME HEADING … 2
2.1 Sub Heading ….. 4
2.1.1 Sub Sub Heading …. 6
2.1.2. Sub Sub Heading …. 7
2.2 Some other Sub Heading … 12
3. SOME HEADING ….. 20
4. SOME HEADING …… 25
4.1 Sub Heading …….. 25
5. CONCLUSION ………… 28
5.1 Future Work …………29

REFERENCES ……… 31

APPENDICES
A, APPENDIX HEADING …… 33
B. APPENDIX HEADING …….. 42

এই পেজটি তৈরির কাজ ওয়ার্ড প্রসেসরই করতে পারে। আপনার পেপারের কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে যদি পেপার শুরু আগেই ফরম্যাটিং ঠিক করে নেন। আপনি যে ফন্ট, সাইজ ইত্যাদি চান তা ঠিক করে ফরম্যাট সেভ করে রাখুন। হেডার ফরম্যাটিং ও সেভ করুন (Header 1, Header 2) ইত্যাদি দিয়ে। এম এস ওয়ার্ড, ওপেন অফিস সহ মোটামুটি সব ওয়ার্ড প্রসেসরে এই অপশনটি পাবেন। পেপার শেষে টেবিল অফ কন্টেন্টের অপশনে ক্লিক করলেই আপনার সূচী তৈরির কাজ ওয়ার্ড প্রসেসরই করে দেবে। লিব্রাঅফিস (ওপেন অফিসে) এই অপশনটি ইনসার্ট মেনুতে আছে। ল্যেটেক (Latex) দিয়ে পেপার লেখা পানির মতন সহজ কাজ এবং তাতে ফরম্যাটিং নিয়ে চিন্তাই করতে হয় না। সময় পেলে সেটা নিয়ে একটা লেখা লিখবো। বিশেষ করে সাইন্টিফিক কোনো পেপার বিশেষত নোটেশন লিখতে ল্যেটেক এর বিকল্প নেই।

এই পেজের নম্বর দিতে ভুলবেন না। তবে মনে রাখবেন এই পেজের পর আসা সব পেইজের তথ্য টেবিল অফ কন্টেন্টে থাকবে। এই পেজ ও এর আগের কোনো পেজের তথ্য নয়।

টেবিলের সূচি:

এর হেডিং (LIST OF TABLES) হবে সেকশন হেডিং, এবং ফরম্যাটিং টেবিল অফ কন্টেন্ট পেজের মতন। তবে প্রতিটি টেবিলের নামের আগে টেবিল নম্বর থাকতে হবে। এই পেজে টেবিল নম্বরের আগে ‘টেবিল’ শব্দটি ব্যাবহার করবেন না। টেবিলের নম্বর ক্রমানুসারে বা সেকশনে ক্রমানুসারে দিতে পারেন। যেমন 10.2 বা 7। সেকশন ক্রমানুসারে দিলে নম্বরে দুটো অংশ থাকবে, পেপারের ক্রমানুসারে দিলে একটিই থাকবে। টেবিল নম্বরের দুটি অংশ থাকবে, প্রথম অংশ হবে টেবিলটি যেই সেকশনে আছে তার নম্বর ও দ্বিতীয় অংশে থাকবে সেই সেকশনের এটা কত নম্বর টেবিল। যেমন: 4.6 Cost of Maintenance দিয়ে বোঝাবে এটা ৪ নম্বর সেকশনে আছে, এই সেকশনে এই টেবিলটি ৬ নম্বর টেবিল। টেবিলের নাম হবে কন্টেন্টে টেবিলের যে নাম দিয়েছেন তাই, ছোট করবেন না। এ্যাপেনডিক্সে থাকা টেবিলও এখানে যুক্ত করবেন, যেমন A.12 Some Table Heading।

এই পেজের নম্বরও হবে লোয়ারকেস রোমান।

চিত্র ও গ্রাফের সূচি:

এই সেকশনের হেডিং LIST OF FIGURES) এবং টেবিল লিস্টের মতন। টেবিল আর লেখা ছাড়া বাকি সবকিছুই এই সেকশনে আসবে। চিত্রের নম্বরিং ও টেবিলের মতন, প্রথমে সেকশন ও তারপর ঐ সেকশনে চিত্রের নম্বর, বা পেপারের ক্রমানুসারে ফিগারের নম্বর।

ABSTRACT পেজ:

এর হেডিং হবে সেকশন হেডিং এবং এতে আপনার পেপারের উদ্দেশ্য ও ফলাফল থাকবে। আপনার প্রতিষ্ঠানে এই পেজের শব্দসংখ্যা নির্ধারন করে দিতে পারে (৫০০, ১০০০ ইত্যাদি) যদি না দেয় ৫০০-৭৫০ এর মাঝে রাখা ভালো হবে। এই পেজের নম্বরিং ও লোয়ারকেস রোমান।

মেইন পেপার:

এ্যবস্ট্র্যাক্টের পর থেকে শুরু হবে আপনার আসল পেপার। এখান থেকে শুরু হবে এ্যারাবিক নম্বরিং (1, 2, 3 ইত্যাদি) এবং এটা চলবে পেপারের একেবারে শেষ পর্যন্ত। এখান থেকে উপসংহার (মানে এ্যাপেন্ডিক্সের আগ পর্যন্ত) সব সেকশনের নম্বরিং করতে হবে, নাম দিতে পারেন সেকশন (SECTION x) বা চ্যাপ্টার (CHAPTER x) এবং এর পর একটি স্পেস দিয়ে সেকশন বা চ্যাপ্টারের নাম। নামের পর তিন বা চার স্পেস দিয়ে লেখা শুরু করবেন।

সেকশন হেডিং বোল্ড বা আন্ডার লাইন্ড করতে পারেন, তবে দুটোই করবেন না। ইটালিক করবেন না, ইটালিক শুধু মাত্র কোনো ইন-লাঈন কোটেশন দেবার সময় বা সাইন্টিভিক নোটেশন দেবার সময় ব্যাবহার করবেন। সেকশন হেডিং হবে সব ক্যাপিটাল লেটারে, সাব হেডিং হবে সেন্টেন্স কেস (বাক্যের প্রথম লেটার ক্যাপিটাল), টাইটেল কেস (প্রতিটা শব্দের প্রথম লেটার ক্যাপিটাল লেটার) নয়।

টেবিল ও ফিগার হেডিং ও হবে সেন্টেন্স কেস, শেষে পিরিয়ড ব্যাবহার করবেন এবং এর অবস্থান হবে টেবিলের আগে। ফিগারের নাম সবসময় ফিগারের নিচে থাকবে। তবে পেপারের ভেতরে টেবিল ও ফিগার ব্যাবহারের সময় টেবিল নম্বরের আগে টেবিল বা ফিগার শব্দটি ব্যাবহার করবেন এবং নম্বরের পর কোলন ব্যাবহার করবেন, যেমন Table 10.5: List of bloggers who read this. টাইটেলের আগে একটি, টাইটেল ও টেবিলের মাঝে একটি ও টেবিলের শেষে দুটি স্পেস দেবেন। টেবিল ও ফিগার থাকবে সেন্টার এ্যালাইন্ড।

টেবিল যদি এক পেজে না যায়গা হয় তবে এর এলাইনমেন্ট বদলিয়ে দেখতে পারেন। যদি তাও না হয় তবে দুই পেজে বা বড় সাইজের পেজে যায়গা করে দিতে পারেন। যদি দুই বা ততোধিন পেজে যায় তবে প্রতি পেজে Table x.y – continued লিখে দেবেন (এটা সূচিপত্রে যাবে না)।

ফন্ট:

পেপার লেখার ক্ষেত্রে স্ট্যান্ডার্ড ফন্ট ব্যাবহার করুন। স্ট্যন্ডার্ড ফন্ট গুলো হলো শিকাগো, কুরিয়ার, হেলভেটিকা, এরিয়্যাল, নিউ ইয়র্ক, প্যালান্টিনো, টাইমস ও টাইমস নিউ রোমান। এগুলো বাদে কোনো টাইপফেস ব্যাবহার করতে চাইলে আগে এ্যাডভাইজারের কাছ থেকে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে রাখুন। টাইমস নিউ রোমানের মতন ছোট ফন্ট ১০ বা১২ সাইজে লিখতে পারেন। তবে কুরিয়ারের মতন বড় ফন্ট ব্যাবহার করলে ১০ সাইজেই লিখবেন। সাবসেকশন বডির চাইতে ২ পয়েন্ট ও সেকশন হেডিং বডির চাইতে ৪ পয়েন্ট বড় হবে। ফুটনোট বডির চাইতে দুই থেকে তিন পয়েন্ট ছোট হবে।

ক্যরেরক্টার স্পেসিং হিসেবে ফন্টের ডিফল্ট স্পেসিং ব্যাবহার করবেন। সায়েন্টিফিক নোটেশনের ক্ষেত্রে অন্য কোনো স্পেসিং ব্যাবহার হতে পারে।

ইক্যুয়েশন:

পেপারের মডেল ও মূল ইক্যুয়েশনে নম্বরিং করতে পারেন, তাহলে পরে এই ইক্যুয়েশন রেফারেন্স করতে সহজ হবে। নম্বরিং করলে সেকশনের ক্রমানুসারে করুন, যেমন, সেকশন ২ তে ব্যবহার করা দুটো ইক্যুয়েশন

x + y = z (2.1)
y=100 (2.2)

সেকশন ৩ এ ব্যাবহার করা একটি ইক্যুয়েশন যাতে সেকশন ২ এর একটু ইক্যুয়েশনের মান বদলানো হবে।
lets change value of y in (2.2)
y=120 (3.1)

রেফারেন্স:

এই বিষয়েই আমরা সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের সম্মুখীন হই। তবে এটা তৈরি করাও সহজ কাজ।

আপনার পেপারে যতরকম কোট ব্যবহার করেছেন, ও যেসব বই, পেপার, পত্রিকা, সিনেমা ইত্যদি ব্যবহার করেছেন তার লিস্ট দেবেন।

রেফারেন্স দেবার বেশ কতগুলো স্টাইল আছে, এর মাঝে জনপ্রিয় গুলো হলো এমএলএ (MLA), এপিএ (APA) এবং শিকাগো/টুরাবিয়ান(Chicago/Turabian)। এগুলো সম্পর্কে জানতে গুগলে সার্চ করে দেখতে পারেন। আপনি কোন স্টাইলটি ব্যবহার করবেন সেটা নিয়ে আগেই প্রফেসরের সাথে আলোচনা করে রাখুন। সাধারনভাবে যেকোনোটাই মেনে নেয়া হয়, তবে আপনি যেটাই ব্যাব হার করবেন সেটা পুরো পেপারেই (ফুটনোট ও রেফারেন্স পাতায়) ব্যাবহার করবেন, বদলাবেন না।

যদি শিখতে চান কোনটা কি, পার্থক্য কি সেটা উইকি থেকে পড়ে নিন। প্রতিটা স্টাইলেরই আলাদা ম্যানুয়াল আছে, সেখান থেকে কোন ধরনেরটা কিভাবে করতে হয় তা বলা আছে।

যদি হালকা চোরামি করতে চান (এটাকে ঠিক চোরামি বলা যায় না) তবে সাইটেশন সার্ভিস ব্যাবহার করুন। অনলাইনে অনেক সার্ভিস ই আছে এটা করে দেবার জন্য, আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ইসিবিব  আর বিবমি  ব্যবহার করি। দুটোতেই আপনি সেইভ করে রাখতে পারবেন ও পরে পুরো পেইজ এক্সপোর্ট করে নিতে পারবেন। ওয়ার্ড প্রসেসরেও এই জন্য আলাদা টুল আছে (ফ্রি), যোগ করে নিতে পারেন। এন্ডনোটের মতন সফটওয়্যারও আছে (বলেছিলাম তো এটা সবচেয়ে সহজ কাজ)।

শেষ করি কতগুলো সাজেশন দিয়ে, সাজেশনগুলো নিতান্তই ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেয়া।

– লেখা শুরুর আগেই ফরম্যাটিং ডিফল্টগুলো সেট করে নিন। হেডিং, সাব হেডিং, কনটেন্ট ইত্যাদির ফন্ট সাইজ, টাইপফেস ইত্যাদি। এটা করার সবচেয়ে সহজ হলো কিছু একটা লিখে সেটাকে সেই ফরম্যাটে সেট করে তার পর তাকে কুইক স্টাইল হিসেবে সেট করে নিন। ওয়ার্ড ২০০৭ এ স্টাইল মেনুর পাশে ছোট ডাউন এ্যারোতে ক্লিক করলেই অপশনটা পাবেন। ওপেনঅফিস বা অন্যান্য ওয়ার্ড প্রসেসরেও এটা একেবারে সামনেই থাকে। তাহলে আপনাকে বারবার কাজটা করতে হবে না বা কন্সিস্টেন্সির চিন্তা করতে হবে না। লেখা শেষে টেবিল অফ কন্টেন্ট, লিস্ট অফ টেবিল ইত্যাদি তৈরি করতে আপনার ৫ মিনিট সময় লাগবে।

– যদি আটোমেটিক টেবিল অফ কন্টেন্ট তৈরি না করেন, তবে সেটা তৈরির সময় প্রথমে একটা নতুন টেবিল বানিয়ে কন্টেন্ট লিস্ট বানান। তৈরি শেষে টেবিলের বর্ডার ইনভিজিবল (নো বর্ডার) করে দিন।

– সেকশন টাইটেল গুলো ভালো ভাবে খেয়াল রাখুন। যেমন সূচিপত্র পাতার টাইটেল TABLE OF CONTENTS , Table of Contents বা Table of Content বা শুধু মাত্র Contents নয়।

– এখন থেকে আপনার করা মোটামুটি সব পেপারই এভাবে ও একইভাবে করার চেস্টা করুন। পরে কোথাও সাবমিট করতে হলে তাহলে কন্টেন্ট রিভিশন ছাড়া তেমন কিছু করতে হবে না।

– প্রতিটা প্যারাগ্রাফের মাঝে এক স্পেস জায়গা রাখবেন। প্যরাগ্রাফের প্রথম সেন্টেন্সটা কিভাবে শুরু করবেন সেটা আপনার উপর নির্ভর করে। একেবারেই লেফট মার্জিন থেকে শুরু করতে পারেন, বা প্রথম সেন্টেন্সটা ইনডেন্ট (এক ট্যাব স্পেস) দিয়ে শুরু করতে পারেন। দুটোই গ্রহনযোগ্য। শুধু যেটা ব্যাবহার করবেন সেটা কনসিস্টেন্ট রাখবেন।

– পেজে তিন লাইনের বেশি ফাকা জায়গা রাখবেন না, যদিনা তার পর নতুন কোনো সেকশন শুরু হয়। নতুন সেকশন সবসময় নতুন পাতায় শুরু করুন।

– যদি কোনো পেজে বড় টেবিল বা ফিগারের কারনে অন্তত চার লাইন লেখা না রাখতে পারেন তাহলে সেই পেজে শুধু মাত্র টেবিল বা ফিগারই রাখুন। বড় কোনো টেবিল বা ফিগার যদি খুবই গুরুত্বপূর্ন না হয় তাহলে যেটা পরিশিষ্ট (এ্যাপেন্ডিক্স) হিসেবে ব্যাবহার করুন ও লেখার মাঝে সেটাকে নম্বর দিয়ে রেফার করুন।

– টেবিল বা ফিগারের সোর্স উল্লেখ করতে চাইলে টেবিলের ঠিক নিচে কোনো স্পেস না দিয়ে ফুটনোটের ফন্টে লেফট এ্যালাইনমেন্টে লিখুন। চাইলে টেবিল বা ফিগারের টাইটেলে ফুটনোট ব্যাবহার করে পেইজের ফুটনোট হিসেবেও সোর্স লিখতে পারেন।

– ফুটনোটের জন্য ওয়ার্ড প্রসেসরের অটো ফুটনোট অপশনটি ব্যাবহার করুন। এতে আপনাকে ফুটনোটের নম্বরিং নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। ফুটনোট ব্যাবহার না করে এন্ডনোটও ব্যাবহার করতে পারেন। তা করলে পেপারের মূল কন্টেন্ট শেষে একসাথে সব এন্ডনোট থাকবে। খুব এ্যাডভান্সড কোনো পেপার ছাড়া সাধারনত ফুটনোটই ব্যাবহার করা হয়। এন্ডনোট সফটওয়্যার বা ওয়ার্ডপ্রসেসরে এই অপশন দুটোই বিল্টইন অবস্থায় (ফুটনোট আর এন্ডনোট) থাকে।

– যদি অন্যকোনো পেপারের রেফারেন্স হিসেবে এক বাক্যের বেশি কিছু আনেন, তবে সেটা ইনডেন্ট দিয়ে ব্লককোট হিসেবে লিখবেন। সুপারভাইজরের সাথে আগে এই বিষয়ে (ব্লক কোট) কথা বলে নেবেন।

– সবচেয়ে ভালো হয় যদি LaTeX দিয়ে লেখেন। এটা দিয়ে কোনো রকম ফরম্যাটিং, পজিশনিং ইত্যদি নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। বিশেষত আপনার পেপারে যদি মিক্সড কন্টেন্ট থাকে (মানে ইংরেজী, বিভিন্ন ইক্যুয়েশন, অন্যান্য ভাষায় নোটেশন, সাইন্টিফিক নোটেশন, টেবিল, ফিগার ইত্যাদি) তবে ল্যেটেক দিয়ে লেখার বিকল্প নেই। আর কোনো নামী জার্নাল সাবমিশন হলে তো কথাই নেই, সেখানে এটা অবশ্যক। ল্যেটেকে হাতে গোনা কয়েকটি ফরম্যাটিং কমান্ড আছে, এবং আপনার কাজ হলো শুধু লেখা। ওয়ার্ড প্রসেসরে নানান বিষয় নিয়ে চিন্তা থেকে, যেমন পজিশনিং, ইনসার্ট ইত্যাদি। ল্যেটেকে এসব কাজ করা খুবই সহজ। বিশেষ করে ম্যাথমেটিক্যাল নোটেশন ব্যাবহার করা অত্যন্ত সহজ।

Comments

comments