জাল নোট শনাক্তে মোবাইলে যুক্ত হচ্ছে বিশেষ পদ্ধতি

আসল ব্যাংক নোট ও জাল নোটের মধ্যে পার্থক্য করা অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আর ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের হাতে জাল নোট চলে আসলে ক্ষতির সম্মুখীন হন তারা। অনেকক্ষেত্রে আইনগত জটিলতায়ও পড়তে হয়। এ সমস্যার সমাধান করতে সবার হাতের নাগালে আসছে প্রযুক্তি। মোবাইল ফোন সেটের মাধ্যমে যাচাই করা যাবে আসল টাকার নোট। মোবাইল ফোনে সংযোজন করা হচ্ছে ইউভি টর্চ লাইট। আসল নোটের উপর এ টর্চ লাইটের আলো ফেললে লুকায়িত বিশেষ নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য চোখে পড়বে। পরীক্ষামূলকভাবে একটি কোম্পানি তাদের একটি সাধারণ মডেলের ফোনসেটে ইউভি লাইট যুক্ত করে বাজারে ছেড়েছে। আর জালনোট প্রতিরোধে এটি কতটুকু কার্যকর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
 
আসল ব্যাংক নোটে বেশ কিছু নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য আছে যা খালি চোখে দেখা যায় না। এগুলো লুকায়িত থাকে। জালনোট খালি চোখে হুবুহু আসল নোটের মত দেখতে হলেও লুকায়িত এসব নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য জালনোটে দেওয়া থাকেনা। ব্যাংকসহ অন্য বড় প্রতিষ্ঠানে জালনোট শনাক্তকরণে মেশিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ ওই মেশিন সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন না। কিছু ছোট যন্ত্র থাকলেও তা আলাদাভাবে বহন করতে হয়। তাই নিত্যব্যবহার্য পণ্যের মাধ্যমে জালনোট শনাক্ত করার উপায় খুঁজছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। মোবাইল ফোনে ইউভি লাইট ব্যবহার করে জালনোট প্রতিরোধের বিষয়টি উদ্ভাবন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক কাজী আবদুল মান্নান। এছাড়া তিনি স্মার্ট ফোনের ক্যামেরা ব্যবহারে করে আসল নোটের কিছু বৈশিষ্ট্য যাচাই করার পদ্ধতি বের করেছেন।
 
সুত্র জানায়, বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ১০০০, ৫০০ ও ১০০ টাকা মুল্যমানের আসল নোটে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য হিসেবে নোটের কাগজে আল্ট্রাভায়োলেট (ইউভি) রঙিন ফ্লুরোসেন্ট বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকে। এটি খালি চোখে দেখা যায়না। ইউভি লাইটে এটি দেখা যায়। জালনোট প্রতিরোধে মোবাইল ফোনে এই লাইট সংযোজন করার ব্যাপারে কয়েক মাস আগে কয়েকটি মোবাইল সেট উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই বৈঠকে আলোচনার পরে এডিসন গ্রুপের ব্রান্ড ‘সিম্ফনি’  মোবাইল ফোনে এটি করতে রাজী হয়। পরীক্ষামূলকভাবে সিম্ফনি ব্র্যান্ডের এল-৩০০ মডেলের একটি হ্যান্ডসেটে ইউভি লাইট সংযোজন করে বাজারে ছাড়া হয়েছে। এতে ‘মানি টেস্ট টর্চ’ নামে আলাদা মেনু সংযোজন করা হয়েছে। ওই টর্চের আলো ১০০, ৫০০ ও ১০০০ নোটের উপরে পড়লে বিক্ষিপ্ত ইউভি ফাইবার দেখা যায়। জালনোটে এই ফাইবার দেখা যায় না।
 
এটিকে কার্যকর করা ও জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে কিনা সেই বিষয়ে গত সোমবার সিম্ফনি কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা। মোবাইল ফোনের ইউভি লাইট জালনোট প্রতিরোধে কতটা কার্যকর তা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যসব নোট এবং পুরাতন নোটগুলোকে কিভাবে পরীক্ষা করা যায় সেই বিষয়ে খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিষয়টি স্বীকৃত হলে সিম্ফনি সব মডেলের সঙ্গে এই ইউভি লাইট যুক্ত করতে চায়।
 
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন প্রযুক্তি আছে। বাংলাদেশেও জাল নোট শনাক্তে বিভিন্ন যন্ত্র রয়েছে। মোবাইল ফোনে ইউভি লাইট যুক্ত হলে তা সকলে হাতের নাগালে চলে আসবে। তখন জাল নোট শনাক্ত করা ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জন্য সহজ হবে।
 
সিম্ফনি মোবাইলের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এডিসন গ্রুপের এমডি জাকারিয়া শাহিদ বলেন, জালনোট প্রতিরোধে ইউভি টর্চ ব্যবহারের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক স্বীকৃতি দিলে আমরা তা ব্যাপকভাবে বাজারে ছাড়তে চাই। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিষয়টি জানাতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বীকৃতি পাওয়ার আগে এই বিষয়টি আমরা প্রচার করতে পারছি না।  
 
এছাড়া প্রচলিত উন্নতমানের স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে আসল নোট শনাক্ত করা যায়। আসল নোটের ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংক, নোটের মূল্যমান ইত্যাদি সুক্ষভাবে লেখা থাকে; যা খালি চোখে দেখা যায় না। স্মার্টফোনের ক্যামেরা জুম করে  ওই সুক্ষ লেখাগুলো দেখা যায়