১৩ দফা দাবীতে বশেমুরকৃবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

১৩ দফা দাবীর ভিত্তিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করে সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ আজ বুধবার । বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীরা ১ নং গেট এ একত্রিত হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে জড়ো হয়। “১৩ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন ও মানববন্ধন” ব্যানারে তারা মানববন্ধন কর্মসূচী শুরু করে, এক পর্যায়ে তারা সোচ্চার কন্ঠে “আমাদের দাবী মানতে হবে ” স্লোগান দিতে থাকলে মাননীয় উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে ছাত্রকল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ড: রুহুল আমিন সেখানে উপস্থিত হন। উপাচার্য মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয় এ উপস্থিত না থাকায় শিক্ষার্থীরা অবশেষে পরিচালক ছাত্রকল্যাণের কাছেই তাদের ১৩ দফা দাবী ও তার যথার্থতা উপস্থাপন করে। দাবীগুলো মেনে নেয়ার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এক সপ্তাহ সময় বেধে দেয়। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রোক্টর এবং দুটি ছাত্র হল ও দুটি ছাত্রী হলের প্রভোস্টবৃন্দ।
নাক প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন  শিক্ষার্থী তাদের মতামত ব্যক্ত করে বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এর বয়স ১৯ বছর হয়ে গেলেও আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা অনেক সুযোগ সুবিধা হতে বঞ্চিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বদা ছাত্রছাত্রীদের হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। আমরা নিপীড়িত এবং নিগৃহীত, যুগের পর যুগ ধরে আমাদের এসকল দাবী আমরা উপস্থাপন করলেও বাস্তবিক অর্থে আমরা এর কোন সুরাহা পাই নি। আমরা প্রশাসনকে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছি যদি এসময়ের মধ্যে আশানুরূপ ব্যবস্থা প্রশাসন না নেয় তাহলে আমরা আরো বড় ধরণের কর্মসূচীতে যাব। প্রয়োজনে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘট, এমনকি আমরণ অনশন করা হবে।”

 

শিক্ষার্থীদের দাবীগুলো নিম্নরূপঃ
১। টার্ম সিস্টেম একাডেমিক পদ্ধতি বাতিল করে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করতে হবে।
২। অত্র বিশ্ববিদ্যালয় হতে বি এস ডিগ্রী প্রাপ্ত (সিজিপিএ ২.৫০ -৪.০০ ) সকল শিক্ষার্থীকে এম এস কোর্সে ভর্তির সুযোগ দিতে হবে
৩। ভর্তি ফী ও এনরোলমেন্ট ফী কমাতে হবে।
৪। আবাসন সংকট ও যানবাহন সংকট এর দ্রুত সমাধান করতে হবে।
৫।হেলথসেন্টারের প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ও যন্ত্রপাতি বৃদ্ধি এবং ২৪ ঘণ্টা মেডিকেল সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে।
৬। প্রতিটি হলে রিডিং রুম করতে হবে এবং লাইব্রেরীতে বইয়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
৭। প্রতিটি আবাসিক হলে বি এস এবং এম এস কোর্সের শিক্ষার্থীদের সমন্বিতভাবে থাকার ব্যাবস্থা করতে হবে।
৮। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তাঘাট পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার করতে হবে।
৯। প্রতিটি হলের প্রতিটি রুম এ সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
১০। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আর্থিক সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে দরিদ্র তহবিল গঠন করতে হবে।
১১। একাডেমিক কারিকুলামে ইংরেজি বেসিক কোর্সের অন্তর্ভুক্তি করতে হবে।
১২। ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও উন্মুক্ত জ্ঞান চর্চার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে কালচারাল ক্লাব, ম্যাথ ক্লাব, ইংলিশ ক্লাব, ফটোগ্রাফি ক্লাব ও স্পোর্টস ক্লাব গঠন করতে হবে।
১৩। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিবস উদযাপন, অনুষ্ঠান পরিচালনা ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের মতামতের প্রাধান্য দিতে হবে।

তীব্র আন্দোলনের তোপে প্রশাসন ৭ দিনের সময় চেয়ে নিয়েছে ৷ এই ৭ দিনে যদি কোন আশার আলো শিক্ষার্থীরা না দেখতে পায় তাহলে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন এমনকি আমরণ অনুশনেও যেতে ইচ্ছুক

উল্লেখ্য গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০তম ব্যাচের র‍্যাগ ডে পালনে বাঁধা দেয় প্রশাসন ৷ তারই রেষ ধরে আজকের আন্দোলনের সূত্রপাত ৷

Comments

comments

Leave a Reply